ভোরবেলা সেদিন আমার রুমে আলো জ্বলতে দেখে আম্মু কিছুটা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করেন যে এত রাতে কী করছি। সত্যি বলতে কি তখন কিছুই করছিলাম না।অস্বাভাবিকতা এখন স্বাভাবিক হয়ে নিয়মে পরিণত হয়েছে। অদ্ভুত এই জীবন এখন ঘরকেন্দ্রিক সবকিছুতে বন্দি। আর সবকিছুর মতো এতেও মিশ্র অভিজ্ঞতা হচ্ছে। রীতিমতো ভয়ংকর সব সংবাদের মাঝেও পরিবারের সাথে কাটানো সময় একটু হলেও স্বস্তি দিচ্ছে। বিশেষ করে একান্নবর্তী পরিবার হওয়ার কারনে একসাথে আড্ডা দিচ্ছি,দাবা-লুডো খেলছি কিংবা বাবা-মার সাথে গল্প করছি যা সচরাচর হয় না।আর খারাপ লাগা বলতে মহামারির এই সময়ে কেউই মানসিকভাবে ভালো নেই।নতুন অনেক অভিজ্ঞতাই এই অল্প সময়ে হয়েছে। যেমনঃখুব সফলভাবেই ৩ মাস পড়াশোনা ছাড়া কাটিয়ে দিয়েছি। বাহিরের বাতাসের ছোয়া অনেক দিন এই শরীরে অনুভূত হয়নি। আর সবচেয়ে খারাপ লাগার কথা বলা হলে বলবো-জানালা দিয়েই বস্তির পরিবারগুলোকে দেখা যায়। পাশাপাশি এপার্টমেন্ট আর ছিন্নমূল মানুষকে দেখতে নিশ্চিত কারোই ভালো লাগবে না। এভাবেই পরিবারের সাথে কাটাচ্ছি,কিছুটা হলেও ভালো সময় কাটাচ্ছি। অন্তত পরিবারের আবহ বেঁচে থাকতে সাহায্য করছে আবার আমার এমন বন্ধুও আছে যাদের সময়টা আমার চেয়ে পুরোপুরি ভিন্নভাবে কাটছে। ঘরের মানুষের সাথে তাদের সম্পর্কটা অনেকটাই সৌজন্যতার।ফলে একান্নবর্তী পরিবারের মত করে পরিবারের সবার সাথে সময় কাটাতে পারছে না; চার দেয়ালে ডিজিটাল ডিভাইসের সাথেই সময়টুকু কাটছে তাদের,ফলে তারা রীতিমতো সংকীর্ণ হয়ে পড়ছে।
পুনশ্চ:
আমাদের দেশের সাপেক্ষে বৃহত্তর অংশ জীবন ও জীবিকার কাছে নাস্তানাবুদ হয়ে কাজে নামতে বাধ্য হচ্ছে।তবুও আমাদের মতো প্রত্যেক শিশু আর যাই হোক, অন্তত বাবা-মা’র সুশীতল নিরাপদ ছায়ায় জীবন পার করছে। আর যুগ-যুগ ধরে এটিই নিয়ম,এটিই স্বাভাবিকতা।সবার লকডাউন জীবন একইভাবে কাটছে না।পরিবারের সাথেই যেহেতু সবাই পুরোটা সময় কাটাচ্ছে, তাই পরিবারভেদে ব্যাপক ভিন্নতা দেখা দিচ্ছে।তার কারণ প্রতিটি পরিবারের মাঝে বিদ্যমান ভিন্নতা আর হোক না ভিন্নতা ভিন্ন ভিন্ন কারণে তবুও…পরিবারের ধরন,স্বকীয়তা, মনোভাব সবকিছুর উপর নির্ভর করে।তবুও মহা সত্য ও আশা এই যে,সবকিছুর মাঝেই প্রতিটি মানুষ পরিবার নিয়েই ভালো থাকুক
লিখেছেন : Safkat Raiyan Sablil

Leave a Reply