বাবার কাছে খোলা চিঠি

প্রিয় বাবা
কি সম্মোধন দিয়ে শুরু করব বুঝতে পারছি না।
আমার এই ৩৬/৩৭ বছর বয়সে প্রথম বাবাকে নিয়ে লেখা. বাবা নামের বটবৃক্ষের ছায়া থেকে আমাদেরকে সরিয়ে নিও না আল্লাহ।

করোণা মহামারীর কারণে আমি বাবা-মা ফ্যামিলিকে নিয়ে অবস্থান করছি একসাথে। যখন লকডাউন উঠে যায় আমি অনেকবার কর্মস্থলে চলে যেতে চেয়েছিলাম। বাবা তোমার আর সুবা/সবিতের জন্য যেতে পারছিনা। মা বাবা ফ্যামিলির কেউ চায়না আমি ঢাকায় যাই। আমি একদিনের জন্য ঢাকা গিয়েছিলাম।বাবা কে না বলে। বাবা আমাকে তিনবার ফোন দিয়েছে। এই প্রথম সর্বোচ্চ উনি আমার খোঁজখবর নেয়ার জন্য তিনবার ফোন দিয়েছেন।

বাবা আমি তোমার চলাফেরার উপরে অনেক বিরক্ত। তোমার খাওয়া-দাওয়া চলাফেরা রুটিনটা আমার একটুও ভালো লাগে না। আমি যখনই তোমাকে বলতে চেয়েছিলাম তুমি বারবার বিরক্ত হতে। পরে আমি বলাটা ছেড়ে দিয়েছি। যেহেতু তুমি রাগ করো তোমার বৌমা ও চায়না আমি তোমাকে বলি।

বিশ্বাস কর বাবা আমি চাই তুমি আমাদের সাথে অনেকদিন থাকো। সুস্থ স্বাভাবিক জীবন যাপন করো। আমরা ভাইরা মোটামুটি ভালো অবস্থানে আছি। তুমি এখন যাই চাইবে তাই আমরা তোমার জন্য করতে পারব ইনশাআল্লাহ বাবা। বাবা আমার খুব ভয় হচ্ছে। এই করোনা মহামারীর মধ্যে তোমার যদি কিছু হয়। আমরা তোমাকে নিয়ে কোথায় যাব। কোথায় চিকিৎসা করাব। এখন যে কোথাও চিকিৎসা হচ্ছে না বাবা। । তোমার ডায়াবেটিস যখন ২৫/২৬ হয়ে যায় সত্যি তখন আমার মাথা ঠিক থাকেনা.তুমি যদি ডায়াবেটিস কন্ট্রোল করতে পারো। তুমি ইনশাল্লাহ অনেকদিন সুস্থ থাকবে।

তোমাকে দেখে মনে হচ্ছে তোমার শরীরটা ভাল না বাবা। তুমি সারাদিন ঘুমায় থাকো। তোমার কথাবার্তার ব্যালেন্স পাচ্ছিনা। তুমি বললা পায়ের ব্যাথাটা বেড়েছে শুধু। না বাবা তোমার শরীরটা অনেক খারাপ হয়ে যাচ্ছে তুমি বুঝতে পারছ না। তোমাকেডাক্তার দেখাইতে হবে দেখি কোথায় ভাল ডাক্তার বসে।

গতকাল হঠাৎ আমার ছোট বোনটা অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাকে হসপিটালে এডমিট করা হয়। তার শরীরের কন্ডিশন তো ভালো না লাঞ্চে পানি আসছে. হার্টের সমস্যা ধরা পড়েছে তাকে বেশ কিছুদিন icu থাকতে হবে. তার ১২ দিনের একটা বেবি আছে। আমার ভগ্নিপতি বারবার আমার সাথে যোগাযোগ করছে এই সময় কি করবে. আমি বলছি আপনার ধৈর্য ধরেন আল্লাহকে ডাকেন যা হবে আল্লাহ সমাধান করে দিবে. বাবাকে যেন বোনের সম্বন্ধে কোন কিছু না বলা হয় মাকে বলে দিয়েছি. তার আগেই মা সব বলে দিয়েছে বাবাকে. একটু পরপর এ বাবা জানতে চাই তার খবর কি। তার এখন কি অবস্থা।

মা আমাকে বলতেছে ঢাকা যেতে চায়। কান্নাকাটি করছে। আমি বললাম ঠিক আছে আজকে দিনটা দেখেন। কালকে আমি ঢাকা যাবার ব্যবস্থা করে দিব। প্রথমে রাজী হয়েছে পরে বলে কিনা আমি আজকে যাবো। বাবার কি অবস্থা তুমি দেখতেছো এখন যাবা বলতেছো। আমার ভাগ্নি দুজন ছোট। ১২ দিনের বাচ্চাটা ও তাদের কাছে। ঠিক আছে যাও। আমি৩;১০ মাকে কাউন্টারে পৌঁছে দিই। ঠিকভাবে যায় ঢাকায় পৌঁছায়।

আমার চোখের সামনে কেমন যেন নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছে বাবা। আমি বাইরে থেকে এসে জিজ্ঞেস করলাম বাবা কিছু খেয়েছে। বললো নাস্তা খেয়ে আবার ঘুমিয়ে গেছে। আজকে কয়েকটা দিন বাবার শুধু ঘুমায়। আগের থেকে অনেক বেড়ে গেছে ঘুমটা। আগে বারান্দা গিয়ে বসতো রাস্তায় একটু হাঁটাহাঁটি করত গত দু’দিন তাও হচ্ছে না। আমি জিজ্ঞাসা করলাম গিয়ে বাবা ওয়াশরুমে যাবেন নাকি। বলে কিনা আমি ঘুমাই। যাব না। আমি বললাম ঠিক আছে সমস্যা হলে ডাক দিবেন। আমি একটুপর পড়ে আসি দেখি ঘুম। ৯ টা বাজে আমি জিজ্ঞাসা করলাম এশার নামাজ পড়বেন বলে। হ্যাঁ বলবো আমি উঠছি। আবার ঘুমিয়ে পরল। আবার এসে আমি বললাম উঠে টেবিলে খাবার দেয়া হয়েছে। উঠতে অনেক কষ্ট হচ্ছে আমি ধরে টেবিলে নিয়ে আসলাম। প্রতিদিন যেখানে চারটা পাঁচটা রুটি খেত আজকে শুধু দুইটা রুটি সবজি দিয়ে খেয়েছে আর ভালো লাগতেছে না। খাওয়ার আগে আমি ডায়াবেটিস মেপে দেখি ১৫.৬। বলে আমি ওয়াশরুমে যাব। আমি নিয়ে যাই। লুঙ্গিটা নষ্ট করে ফেলে আমি চেঞ্জ করে দিয়। উনি আবার ঘুমিয়ে পড়ে।

বাবার এই অবস্থা আমার খুব অস্থির লাগছে আমার। আমার খুব টেনশন লাগতেছে। আমি আমার ছেলেকে বললাম বাবা তুমি তোমার মায়ের কাছে ঘুমাও। আমি আমার বাবার সাথে ঘুমাই। সে হাসতেছে। এত বড় বাবার সাথে কেউ ঘুমায় তোমার বাবা কি ভয় পায়। আমি বললাম আমার বাবা অসুস্থ। কেন জানি এই প্রথম সে রাজী হল। বাবা তাহলে তুমি আমাকে গল্প শোনায় দাও পরে দাদার কাছে যেও। সে আমাকে ছাড়া এক ফোঁটা ঘুমায় না। ওকে গল্প শুনিয়ে আমি যখন যাব সে বলে। বাবা দাদু নাই তার জন্য দাদা ভয় পাচ্ছে। আমি বললাম হ্যাঁ তুমি মাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমাও বাবা যাই। আমার ছেলে যে এত সহজে রাজি হবে আমি ভাবতে পারিনি।

বাবার সাথে কখন ঘুমাইছি আমার মনে নাই তবে এতটুকু মনে পড়ে আজ থেকে প্রায় ৬/৭বছরের কম হবে না. যাইহোক আমি ঘুমিয়ে গেলাম আমার ঘুম চলে আসছে। একটার দিকে আমাকে বলে আমি ওয়াশরুমে যাব। আমি নিয়ে গেলাম। আমাকে বলে তুই এখানে ঘুমাইছিস সাবিত্ কই গেছে। আমি বললাম আছে আপনি ঘুমান। আবার একটু পরে বলে আমি ওয়াশরুমে যাব। আবার নিয়ে গেলাম। বলে আমার লুঙ্গি টা চেঞ্জ করে দেয়। আমি লুঙ্গি চেঞ্জ করে দিলাম দেয়ার পরে আবার ঘুমিয়ে পরল। তখন রাত ১ঃ৩৫। আমার আর ঘুম আসছেনা কেমন অস্থিরতা অস্থিরতা লাগছে। বাবা ঐ রাতেই তিন চারবার ঘুম থেকে উঠে ওয়াশরুমে যায়।

হঠাৎ করে আমার মাথার মধ্যে ঢুকে আমারতো বাবার মত বার্ধক্যে আসবে। আমার বাবা দেখতে কত সুদর্শন স্মার্ট। এখনো গেঞ্জি পর্যন্ত ইস্ত্রি করে পরে। আমার কি, বাবা কি হয়ে যাচ্ছে। আল্লাহ আমাকে একটা ছেলে দিয়েছে সেই কি আমাকে বুঝবে।আমি আশা করব, সেই আমাকে বুঝবে এবং আমার সঙ্গে আচরণে ধৈর্যশীল হবে। বারবার উঠে বাবাকে দেখছি। বাবা কেমন নিস্তেজ ঘুমটা আমার ভাল লাগছে না। চারোদিকে আজান শোনা যাচ্ছ। আমি উঠে পড়ি গিয়ে আমার ছেলেটাকে দেখি। দেখি মায়ের গা ঘেঁষে ঘুমাচ্ছে। আমার ছোট ভাই কে ফোন দিই সে প্রথম কয়েকবার রিসিভ করে না। হয়তোবা ফোন সাইলেন্ট করে ঘুমাচ্ছে। পরে আমি নামাজ পড়ে তাকে ফোন দিয়েছি রিসিভ করে। সেসব কথা শোনার পরে বলে ভাই কোনো ঢাকা পাঠায় দিবেন। পরে আমি আমার ছোট মামার সাথে কথা বলি মামা বলে তোর বড় মামা আজকে ঢাকা যাবে তাদের সাথে দিয়ে দেয়। আমি বাবার জন্য কাঁদছি সবচেয়ে বেশি সেই দিন আমি ওমরা করতে যাচ্ছি যেদিন। বাবাকে ফোন দিয়ে। আমি আমি আর কোনদিন কান্না করেছি বলে মনে পড়ে না। আজকেও ঠিক সে রকম কান্না করেছি। অনেকবার বাবাকে বলেছি বাবা তুমি শরীরের প্রতি যত্ন নাও যত্ন নাও খাওয়া-দাওয়া কন্ট্রোল করো। আমার ঘুম আসছে আমি ঘুমাতে চলে গেলাম আমার রুমে তখন ৬ঃ৩৮

আমার সহধর্মিনী আমাকে বলতেছে বাবা ডাকতেছে। আমি উঠে গেলাম। প্রথমে বোনের কথা জিজ্ঞাসা করল ওর খবর কি? আমি বললাম ভালোর দিকে।তোর মা কোথায় দেখতেছি না যে, আম্মা তো গতকালকে ঢাকা গেছে,, আমি ভুলে গেছি। ফ্রেশ করে নাস্তা খেতে টেবিলে ধরে নিয়ে আসি। ডায়াবেটিস মেপে দেখি 10.2। ইনসুলিন দিয়ে দিয়। একটা ডিম সিদ্ধ খায় একটা রুটি আর একটু ভাজি খায়। রুমে গিয়ে আবার ঘুমিয়ে যায়। মা সাথে কথা বলি মা ও বলে ঢাকা দিয়ে দিতে।

আমার ছোটভাই কি পারবে ডাক্তার দেখাইতে। আমি অনেকের সাথে যোগাযোগ করছি। বাবাকে যে ডাক্তার গুলো দেখে চেম্বারে বসে না এখন। বছর দুয়েক আগে আমি ডাক্তার নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করতাম। এখন আমার ছোট দুই ভাই দৌড়াদৌড়ি করে ডাক্তার নিয়ে।

আজ সকালে সাবিত ঘুম থেকে উঠে লিখতে বসছে কিন্তু সে” ঈ “টা ভালোভাবে লিখতে পারছে না দেখে আমি তাকে বকা দিচ্ছিলাম. সে বলে বাবা আমি এখন লিখব না, মা কে বিচার দিব, দাদুর কাছে বিচার দিয়ে আসি। সে আমাকে বকা দেয় দাদা কেও বকা দেয়। তাকে এখনই ঘর থেকে বের করে দাও। আমার বাবার দরকার নেই আমি আরেকটা বাবা নিয়ে আসবো। আমি বললাম আমি তোমাকে না বকা দিয়েছি। দাদাকে কখন বকা দিয়েছি? আম খায় দাদা কাঁঠাল বেশি বেশি খায়। বকা দিছো। তোমার নাতি চায়না আমি তোমাকে বকা দিব। সাবির তোমাকে এত ভালোবাসে সেটা আমি জানতাম না বাবা।

১১ টার দিকে ঘুম থেকে উঠে বাবাকে গোসল করাই। বাসায় নামাজ পড়ে. ভাত খায় খুবই কম।
মামারা ফোন দিছে ওনারা দেড়টার মধ্যে আসবে বাবাকে রেডি করে রাখতে। আমি বললাম আপনাকে রেডি করে দিই বলে কোথায় যাব। আমি বললাম ঢাকা যেতে হবে। বলে না আমি যাব না। আর বলছি জান ওদের সাথে কথা হয়েছে আপনাকে ডাক্তার দেখাবে।
পরে রেডি করে দিয়ে উনাকে গাড়িতে উঠায়। বিশ্বাস করবেন আমার এত বেশি কান্না পাইছে। আমি অনেকদিন বাবার সাথে হসপিটালে ছিলাম কখনো বাবার কান্না আসে নাই। কখনো এত নার্ভাস মনে হয় নাই এইবার এই প্রথম আমার অনেক নার্ভাস লাগতেছে।

আমি যা চিন্তা করছি তাই হলো। বাবা তুমি ঠিকই অসুস্থ হয়ে পড়লে। এই করোনা মহামারীতে।
ভাইদের সাথে কথা হয় তারা বলে ২/১ দিন সময় লাগবে ডাক্তার দেখাতে।

সকল সন্তানদের উচিত পিতা-মাতার প্রতি অনেক বেশি দায়িত্বশীল হওয়া। আমি বাবা তোমার পাশে একরাত ঘুমিয়ে বুঝতে পেরেছি। আমাদের জন্য সামনে কি দিন অপেক্ষা করছে। বার্ধক্য সময়টা পিতা-মাতারা বড় অসহায় থাকে। সর্বোচ্চ দায়িত্বশীল হতে হবে ঘরের প্রতিটি মানুষকে। শুধু টাকা পয়সার দিয়ে পিতা-মাতার দায়িত্ব পালন করা যায় না। পাশে থাকতে হবে সব সময়।

বাবা তুমি সুস্থ হয়ে তারাতারি আমাদের মাঝে ফিরে আসো। আল্লাহর কাছে বলি আল্লাহ যেন তোমাকে নেক হায়াত দান করে। আমি সাবিত তোমাকে অনেক বেশি ভালোবাসি।

আমি আমার সন্তানকে বলবো। আমরাও বার্ধক্যে যাব, আশা করব, আমার সন্তানরাও বুঝবে এবং আমার সঙ্গে ধৈর্যশীল আচরণ করবে তারা। ধরো, আমি যদি হঠাৎ ওয়াশরুমে যাওয়ার সময় লুঙ্গি বেডশীট নষ্ট করে ফেলি। আমাকে বকা দিও না। বুঝবা আমার স্মরণ শক্তি কমে আসছে। তখন আমি নিজেকে অসহায় আর অপরাধী মনে করি ।

আমার যদি খাওয়া-দাওয়া বেড়ে যায় মনে করবা আমার ডায়াবেটিস বেড়ে গেছে। ভুলে যাই কি খেয়েছি নাকি। আমাকে বকা দিও না। আমার যে খিদা বেশি পায় তাইতো আমি খেতে চাই।

ধরো, আমি যদি হঠাৎ খাওয়ার প্লেট ভেঙে ফেলি অথবা টেবিলে চা ফেলে নষ্ট করি, বুঝবে আমি দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেছি। আশা করি, তখন তুমি চিৎকার করবে না। আর যদি উঁচু স্বরে কথা বোলো, বুঝবে তখন আমি নিজের কাছে খুব ছোট হয়ে যাই, অসহায় আর অপরাধী মনে করি নিজেকে।
খাবার টেবিলে তুমি অনেক বায়না করেছ পানি গ্লাস ভেঙ্গে ফেলেছ। খাবারের প্লেট হাত থেকে ফেলে দিয়েছো। আমি কিন্তু তোমাকে সেদিন বকা দেই নি বাবা।

যখন আমার শ্রবণশক্তি শেষ হয়ে আসছে এবং শুনতে পাচ্ছি না আমাকে তুমি ঠিক কী বলছ, যখন আমি কোন কিছু মনে রাখতে পারি না। তখন আমাকে বারবার মনে করে দেয়ার চেষ্টা করিও। দয়া করে তুমি আবার বলো অথবা লিখে দেখাও।

আমি দুঃখিত বাবা। বৃদ্ধ হয়ে যাচ্ছি, আমার পা দুর্বল হয়ে আসছে। আমি মনে মনে চাই, তোমার ধৈর্য থাকবে আমাকে দাঁড়াতে সাহায্য করতে। যেভাবে আমি তোমার পাশে ছিলাম, যখন তুমি ছোটবেলায় হাঁটতে শিখছিলে। আমার কিছু কথা শোনো, যখন আমি অসহায়ের মতো তোমাকে কিছু বলব…তোমার কাছে ভাঙা রেকর্ডের মতো লাগলেও আমার কথা শুনে বিরক্ত হোয়ো না। তোমার মনে আছে? তুমি ছোট থাকতে আমার কাছে হট উইংস গাড়ি গুলা চাইতে চ। সেটা না পাওয়া পর্যন্ত বারবার আমাকে সেটাই বলতে। সারাক্ষণ জিজ্ঞেস করতে, ‘কখন দেবে, কখন দেবে…।’

দয়া করে আমাকে গোসল করার জন্য জোর কোরো না। আমার শরীর দুর্বল। ঠান্ডায় বয়স্ক মানুষ খুব তাড়াতাড়ি অসুস্থ হয়ে যায়। তুমি যখন ছোট ছিলে…আমাকে তোমার পেছনে দৌড়াতে হতো। কারণ, তুমি গোসল করতে চাইতে না।

তোমার অলস সময়ে, আশা করব তুমি আমার সঙ্গে একটু সময়ের জন্য হলেও কথা বলবে। আমি সব সময় একাকিত্বে ভুগি এবং কথা বলার মানুষ পাই না। জানি তুমি ব্যস্ত থাকো কাজে অথবা আমার কথায় ও গল্পে আনন্দ পাও না তেমন, তবু আমার জন্য কিছু সময় রেখো। তোমার কি মনে পড়ে? যখন ছোট ছিলে, তখন তোমার কত গল্প আমি শুনতাম।

যখন আমার মৃত্যু আসবে, তুমি কি আমার হাত ধরে থাকবে? যা আমাকে সাহস জোগাবে। তুমি চিন্তা কোরো না, আমি যখন মরে যাবো ওপাড়ে চলে যাব তখন আমি আল্লাহর কাছে বলব আমার ছেলে আমার পাশে ছিল সব সময়। তোমাকে অনুগ্রহ করতে…।
কারণ, তুমি তোমার মা-বাবাকে ভালোবেসেছিলে।

সকল বাবা-মার প্রতি রইল শ্রদ্ধা ভালোবাসা।

লিখেছেন : Fazleh Akber

Leave a Reply

You can use these HTML tags

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>