মেইন বিল্ডিংয়ের মানে লাল বিল্ডিংয়ের ল্যাবরেটরিতে আমার অ্যাডমিশন টেস্টের সিট পড়েছিল।
একজন শিক্ষক খুব কড়াকড়ি দিয়েছিলেন। স্কুলে ভর্তি হওয়ার পর জানলাম উনার নাম আবদুল ওয়াহাব। সবার পরিচিত ওহাব স্যার। তখন সম্ভবত স্যার ক্লাস টেনের বি সেকশনের শ্রেনী শিক্ষক ছিলেন। সিক্সে স্যার আমাদের কোন বিষয় পড়াতেননা। একদিন কোন একটা ক্লাসে স্যার আসেন অন্য একজন শিক্ষকের বদলে। ভয় পাচ্ছিলাম স্যার আসবেন শুনে। কেননা, এর আগে বড় ভাইদের কাছে স্যারের কথা শুনেছি। সবাই খুব ভয় পেতো স্যারকে। স্যার আসলেন, ক্লাস নিয়ে চলে গেলেন। ভয়ের কিছু দেখিনি। বরং স্যারের হাতের লেখা আর বাচনভঙ্গি খুব আকৃষ্ট করেছিল। সেভেনেও স্যার কোন ক্লাস নিতেন না আমাদের। ক্লাস এইটে ওঠার পর থেকে স্যারকে নিয়মিত পেতাম। স্যার ছিলেন আমার কাছে আক্ষরিকভাবেই গুরুর মত। ইতিহাস থেকে শুরু করে সাহিত্য কিংবা রাজনীতি সব কিছুর জানাশোনা শুরুই হয়েছে স্যারের কাছ থেকে। কিশোর বয়সে জিজ্ঞাসার যে বীজ স্যার রোপন করে দিয়েছিলেন সেটা আমার জানাশোনার পরিধি বাড়িয়েছে, বাড়িয়ে চলেছে। বঙ্কিমচন্দ্র কতোটা গোড়া ছিলেন বা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সে যুগের তুলনায় কতটা প্রগ্রেসিভ ছিলেন সেটা ক্লাস এইটে পড়া একটা ছেলের জানার কথা না, অন্তত আমার নয়। অনেকগুলো ক্ষেত্রে স্যার সত্যিকারভাবেই আমার বাতিঘর ছিলেন। বকাও শুনেছি খুব। তবে, ক্লাস এইটের পর আর বকতেননা আমাকে। কেন জানিনা খুব স্নেহ করতেন। শিক্ষকদের ভালোবাসা এমনই। যারাই পেয়েছে শিক্ষকদের স্নেহের আশীর্বাদ তারাই নিজেকে স্পেশাল ভাবে।
গত বছর এ দিনটার কথা মনে পড়ে। এ সময়টায় স্কুল মাঠে ছিলাম। স্যারের লাশ বাড়ি নিয়ে যাওয়ার অনেকক্ষন পরও মসজিদের সামনে বসে ছিলাম। এ দিনটা আসলেই স্যারের স্মৃতি তাড়া করে ফিরবে। আর বুকে বেজে উঠবে সুখের মত ব্যথা।
লিখেছেন : হৃদয় দত্ত
ব্যাচঃ ২০১০

Leave a Reply