একটি স্কুল ম্যাগাজিন, প্রিয় পাইলট হাই স্কুল এবং আমার লেখক হয়ে ওঠার গল্প

আমরা তখন ফেনী সরকারি পাইলট হাই স্কুলের ছাত্র। ক্লাশ এইটে পড়ি। নাকি সেভেন? ঠিক মনে পড়ছে না এখন আর। প্রায় দুই যুগ আগের কথা। সম্ভবত পঁচানব্বই বা ছিয়ানব্বই সাল হবে। পঁচানব্বইতে আমরা ছিলাম ক্লাস সেভেনের ব্যাচ। সে যাই হোক, পঁচানব্বই বা ছিয়ানব্বইতে স্কুল থেকে ঘোষণা এলো স্কুল ম্যাগাজিন বের হবে। ম্যাগাজিনের নাম ‘কল্লোল’। ‘কল্লোল’ স্কুলের নিয়মিত বার্ষিক ম্যাগাজিন হলেও নানা জটিলতায় নিয়মিত বের হতো না।

কোনো কোনো ব্যাচ হয়তো পাঁচ বছরের স্কুল জীবনে একটি ‘কল্লোল’ও পায়নি। আমরা একটি পেয়েছিলাম। স্কুল ম্যাগাজিন বের হবে মানে স্কুলে একটি উৎসব উৎসব ব্যাপার। সে বছর আমাদের প্রধান শিক্ষক কে ছিলেন মনে পড়ছে না। আমাদের পাঁচ বছরের স্কুল জীবনে সম্ভবত চারজন প্রধান শিক্ষক পেয়েছিলাম আমরা। তাই ‘কল্লোল’ যে বছর বের হলো সে বছর কে প্রধান শিক্ষক ছিলেন ব্যাপারটা গুলিয়ে ফেলেছি। নিরানব্বই ব্যাচের বন্ধুদের মনে থাকলে কমেন্টে মনে করিয়ে দিস।

যা বলছিলাম, স্কুল ম্যাগাজিন মানেই একটা উৎসব উৎসব ব্যাপার! আমার যতদূর মনে পড়ে ফেনী পাইলট হাই স্কুলের ইতিহাসে অন্যতম জনপ্রিয় শিক্ষক অকাল প্রয়াত আবদুল ওহাব স্যার ছিলেন ম্যাগাজিনটির মূল দায়িত্বে।

সে সময় স্কুলে আরও ছিলেন শীতল স্যার (গণিত পড়াতেন আমাদের এবং উপপাদ্য মুখস্ত না বলা পর্যন্ত আমাদের স্কুলে আটকে রাখতেন ছুটির পরও), সিরাজ স্যার (এমএসসি), মনোরঞ্জন স্যার, খাজা আহমদ স্যার, নুরুল আমিন স্যার, সিরাজ স্যার (বিএসসি), নুরুল ইসলাম স্যার, রফিক স্যার, কিবরিয়া স্যার, সানজিদা মেডাম, লুবনা মেডাম, ফেরদৌসী মেডাম, তসলিমা মেডাম, শচিন্দ্র নাথ স্যার, হায়দার স্যার, ধর্মের খালেক স্যার, বিজ্ঞানের জীবন স্যার, সামশুদ্দিন স্যার, কুদ্দুস স্যারসহ আরও অনেকে। সবার কথা মনে পড়ছে না এই মুহূর্তে।

স্কুল ম্যাগাজিনের জন্য স্কুলের সকল ছাত্রের কাছে লেখা আহবান করা হলো। গল্প, কবিতা, ছড়া, কৌতুক-যার যেমন পছন্দ। আমারও লিখতে খুব ইচ্ছে হলো। আমি স্কুল ম্যাগাজিনের জন্য জীবনে প্রথম একটি গল্প লিখলাম। গল্পের নাম ‘দিলু’। একটি কবিতাও লিখলাম ‘আমাদের বিদ্যালয়’ শিরোনামে। লেখাগুলো ক্লাস ক্যাপ্টেনের হাতে জমা দিলাম। সেরকমই নিয়ম ছিল। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত সব ক্লাশের ছাত্ররা তাদের নিজ নিজ ক্লাস ক্যাপ্টেনের কাছে লেখা জমা দেবে। আমাদের ক্লাস ক্যাপ্টেন ছিল সুশান্ত। আমাদের সেদিনের সেই সুশান্ত বিশ্বাস এখন তরুণ চিকিৎসক। শিশু বিশেষজ্ঞ। রাজধানীর মুগদা হাসপাতালে কর্মরত।

এরপর শুরু হলো আমাদের অপেক্ষার পালা। আমরা কেউ জানি না কার লেখা নির্বাচিত হবে, কার লেখা ছাপা হবে। প্রতি ক্লাসে দুটি করে সেকশন। ক এবং খ। স্কুলে শত শত ছাত্র। লেখা প্রকাশের তুমুল প্রতিযোগীতা । অবশেষে একদিন বের হলো স্কুল ম্যাগাজিনটি। আমি অবাক হয়ে দেখলাম, গল্প বিভাগে মাত্র চারটি গল্প ছাপা হয়েছে এবং তার মধ্যে আমার লেখা গল্পটিও স্থান পেয়েছে। জীবনে প্রথম ছাপার অক্ষরে নিজের নাম দেখে এক ধরণের রোমাঞ্চ অনুভব করলাম। এবং কবিতা বিভাগে আমার লেখা কবিতাটিও প্রকাশিত হলো। সেই যে মাথার ভেতর লেখালেখির এক অদ্ভুত পোকা ঢুকল সেখান থেকে আজও বের হতে পারিনি। স্কুল ম্যাগাজিনটা অনেক দিন যত্ন করে রেখেছিলাম। তারপর বিভিন্ন সময় বাসস্থান বদলের কোনো এক সময় প্রিয় এই ম্যাগাজিনটি হারিয়ে ফেলি! অনেক খুঁজেও আর পাইনি সেটি!

 

/ইমন চৌধুরী/

(Batch 99)

Leave a Reply

You can use these HTML tags

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>