একজন সৌম্যদর্শন, ব্যক্তিত্বসম্পন্ন প্রধান শিক্ষক ছিলেন আমাদের পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে, উনি হলেন শ্রদ্ধেয় বাবু শ্রী জহরলাল ধর। এই মানুষটিকে দেখলে স্বাভাবিকভাবেই উনার প্রতি শ্রদ্ধা এসে যায়। অধীনস্থরা কেউ তাঁর আদেশ অমান্য করতেন না, তাঁর কথা বলার ভঙ্গি ও ব্যক্তিত্বের কারণে। একদিন কথা প্রসঙ্গে আমাকে বিদ্যালয়ের জন্য একটি লোগো করে দিতে বললেন। আরো বললেন, বেশি তাড়াহুড়ো করার দরকার নাই, চিন্তা ভাবনা করে করতে হবে।

আমার প্রিয় প্রাণের বিদ্যালয়, নিজ থেকেই তাগিদ অনুভব করলাম লোগোর মাধ্যমে বিদ্যালয়কে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে।
এখানে একটা কথা বলে রাখি, লোগোটি প্রথমে চতুর্ভূজ একটি ক্ষেত্রের মধ্যে আবদ্ধ ছিল, পরবর্তীতে তা ডিম্বাকৃতি অর্থাৎ বর্তমান যে লোগো দেখছি তাই হয়েছে। ডিম্বাকৃতি দিয়ে সুপ্ত বীজকে বুঝানো হয়েছে।
আমাদের বিদ্যালয়ের লাল রঙের দ্বিতল ভবনের প্রবেশ পথে একটি সুন্দর কথা লিখা আছে, “ENTER TO LEARN, GO FORTH TO SERVE.” অনেক গভীরের এ কথাটি লোগোতে ব্যবহার করা হয়েছে।
এরপর ভিতরে প্রস্ফুটিত একটি কলি ব্যবহার করা হয়েছে, যা দিয়ে মাধ্যমিককে বুঝানো হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায় শেষ করে আসা ছাত্রটি আমার কাছে মনে হয় একটি প্রস্ফুটিত কলি। একটি কঠিন প্রতিযোগিতা করে ছাত্ররা এখানে ভর্তির সুযোগ পায়। এজন্য আমি আমার ছাত্রদের প্রায়ই বলি যে, শ্রেণির সর্বশেষ রোলধারী ছাত্রটি অত্র এলাকার অন্যান্য বিদ্যালয়ের ছাত্রদের চেয়ে ভালো।
প্রস্ফুটিত কলির মাঝ বরাবর এ বিদ্যালয়ের অতি সংক্ষিপ্ত নাম ও নিচে ইতিহাস হচ্ছে, FGPHS 1886, আমাদের বিদ্যালয়টি 1886 সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
জ্ঞান অর্জনের জন্য বই পড়তে হয়, তা পাঠ্য বই থেকে শুরু করে ভাল সব ধরণের বই। তাই বই সংযোজন করা হয়েছে লোগোটিতে। সর্বশেষ আলোর প্রতীক সংযোজিত আছে, ছাত্ররা সর্বক্ষেত্রে মানুষকে আলোর পথ দেখাবে এ প্রত্যাশায়। বই ও আলো ‘ENTER TO LEARN, GO FORTH TO SERVE.” এর বিশ্লেষিত রূপ। বিদ্যালয়ের ছাত্ররা স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিকক্ষেত্রে তাঁদের অবদান রেখে চলেছে।
এ গ্রুপে আমার অগ্রজ ভাই, সহপাঠী, অনুজ ভাই, আমার প্রাণপ্রিয় ছাত্রদের জন্য অনন্ত শুভ কামনা। সবাই ভালো থাকুক, সুস্থ থাকুক।
সবশেষে, আমি গর্বিত আমি পাইলটিয়ান।
বিপুল সরকার
পাইলটিয়ান,
ব্যাচ: ১৯৮৪।

Leave a Reply